প্রধান শিক্ষকের কথা

মোহাম্মদ আব্দুর রহিম

প্রধান শিক্ষক
আনিসুল হক নবারুণ একাডেমি

বিদ্যালয় বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হচ্ছে মানুষ গড়ার কারখানা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠদানই করা হয় না, তাদের সার্বিক বিকাশের লক্ষ্যে বিদ্যালয়ে বিভিন্ন সহপাঠ্যক্রমিক কার্যক্রম নেওয়া হয়ে থাকে। লেখাপড়ার পাশাপাশি সাহিত্যচর্চা ও খেলাধুলার মাধ্যমে পড়াশোনার সমন্বয় ঘটে। এর মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৃজনশীলতা, নেতৃত্ব, ভ্রাতৃত্ববোধ, দেশপ্রেম, জাতীয়তাবোধে উজ্জীবিত হওয়ার মতো প্রভৃতি গুণাবলিও অর্জিত হয়। যে বিদ্যালয়ে যত বেশি সফলভাবে সহপাঠ্যক্রমিক কার্যাবলি গৃহীত হয়, সে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তত বেশি চৌকস ও ভবিষ্যৎ স্বপ্ন পূরণে দৃঢ় প্রত্যয়ী হয়।

আনিসুল হক নবারুণ একাডেমি দেশের একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের আলোকিত মানুষ হওয়ার লক্ষ্যে সাহিত্য, সংস্কৃতি ও খেলাধুলার মতো কার্যাবলি অনুশীলন হয়ে থাকে প্রতিনিয়ত। বিদ্যালয়ের সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার ও কম্পিউটার ল্যাব শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে থাকে। শিক্ষার্থীদের নান্দনিক ও মননশীল করতে বিদ্যালয় বার্ষিকী প্রকাশ করা হয়। আমরা আমাদের শিক্ষার্থীদের মনোজগতে সাহিত্য চর্চার নানা উপকরণ ছড়িয়ে দিয়ে তাদের মানবিক ও নৈতিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতে সবসময় অনুপ্রেরণা যোগাচ্ছি। শিক্ষার্থীদের কল্পনায় কি আছে, যা তারা নিজেকে নিয়ে, দেশকে নিয়ে, সমসাময়িক ঘটনাবলি নিয়ে কী ভাবছে—তারই চিত্র ফুটে ওঠে বার্ষিকীতে। তাদের প্রকাশভঙ্গি হয়তো সাহিত্যের মূল্যায়নে গুরুত্ববহ হবে না, কিন্তু তাদের মনের ইচ্ছেগুলো ডানা মেলে উদ্ভাসিত হয় এ বার্ষিকী এবং দেয়ালিকা প্রকাশের মাধ্যমে।

আমাদের বিদ্যালয় বার্ষিকী ‘মনন’ বিদ্যালয়ের দর্পণ। এই দর্পণের সাহায্যে আমরা সবাই বিদ্যালয়ের ত্রুটি-বিচ্যুতিগুলো দূর করে সামনে এগিয়ে যাব। আমাদের প্রতিশ্রুতিশীল প্রজন্ম দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে উচ্চ শিখরে—এই আমাদের প্রত্যাশা। ২০০২ সাল থেকে যেসব অভিভাবক, শিক্ষার্থী, এলাকাবাসী, গুণীজন আমাদের সাথে ছিলেন, তাদের সন্তানকে এ বিদ্যালয়ে পড়িয়ে পড়ালেখার পথকে সুগম করেছেন। আমাদেরকে সেবা করার সুযোগ করে দিয়ে করেছেন ঋদ্ধ ও সমৃদ্ধ। তাদের প্রত্যেককে জানাই সালাম ও রক্তিম শুভেচ্ছা।

আল্লাহ সবার মঙ্গল করুন।